এম. মনছুর আলম, চকরিয়া:

সম্প্রতি কক্সবাজার জেলায় টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে মানবিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সুশীলনস্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশ-এর অর্থায়নে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচির আওতায় এক হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নগদ অর্থ ও ওয়াশ (WASH) হাইজিন প্যাকেজ প্রদান করা হচ্ছে।

বন্যার দুর্যোগ মোকাবিলায় কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি পরিবারকে ৮ হাজার টাকা নগদ সহায়তা এবং একটি করে ওয়াশ হাইজিন প্যাকেজ প্রদান করা হচ্ছে।

সুশীলন ইতোমধ্যে চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ও বরইতলী ইউনিয়ন এবং পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ও টৈটং ইউনিয়নের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচন করেছে।

জানা গেছে, চারটি ইউনিয়ন থেকে প্রতিটি ইউনিয়নে ২৫০টি করে মোট ১ হাজার পরিবার চূড়ান্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হওয়া প্রতিটি উপকারভোগী পরিবারের বিকাশ অ্যাকাউন্টে ৮ হাজার টাকা করে মোট ৮০ লাখ টাকা সরাসরি পাঠানো হয়েছে।

নগদ সহায়তার পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারকে একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়াশ হাইজিন প্যাকেজ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি প্যাকেজে রয়েছে ১২ লিটার ধারণক্ষমতার একটি পানির কন্টেইনার, ২০ লিটারের একটি প্লাস্টিকের বালতি, দেড় লিটারের একটি মগ, ৫০টি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, আধা কেজি ওজনের দুটি ডিটারজেন্ট পাউডার, আধা কেজি ব্লিচিং পাউডার, ১০টি স্যানিটারি ন্যাপকিনের একটি প্যাকেট, দুটি গোসলের সাবান, ৫ লিটার বিশুদ্ধ খাবার পানি এবং ১০টি খাবার স্যালাইন।

চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নে ইতোমধ্যে ওয়াশ হাইজিন প্যাকেজ বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ইউনিয়নেও এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সুশীলন জানায়, উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় পৃথক দুটি ইনসেপশন সভার আয়োজন করা হয়। এসব সভায় সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি বন্যাকবলিত ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সমাজভিত্তিক সমন্বয় সভার মাধ্যমে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা হয়। তাদের মতামতের ভিত্তিতে সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হয়।

পরবর্তীতে সুশীলনের কর্মীরা প্রতিটি পরিবারে সরেজমিনে গিয়ে যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেন এবং খসড়া তালিকা প্রণয়ন করেন। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমোদনের পর চূড়ান্ত তালিকার ভিত্তিতে নগদ সহায়তা প্রদান করা হয়। বর্তমানে ওয়াশ হাইজিন প্যাকেজ বিতরণ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

সুশীলনের এ উদ্যোগ বন্যাদুর্গত মানুষের জরুরি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুনরুদ্ধারেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।